ছাত্রদলের শীর্ষ পদে জবির ৩ নেতাকে ঘিরে আলোচনা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে ঘিরে জোরালো হয়েছে আলোচনা। বর্তমান ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ, রাজপথে সক্রিয় এবং সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জবি থেকে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে জবি ছাত্রদলের সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক নেতা সুযোগ পেয়েছেন। এবার সেই ধারায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সভাপতি পদে আলোচনায় বাসিত

শীর্ষ পদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে নামটি সামনে এসেছে, তিনি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলন, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সক্রিয় থাকার কারণে কেন্দ্রীয় সভাপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বাসিতের অবস্থান শক্তিশালী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীকে জয়ী করানোর ক্ষেত্রেও তার সাংগঠনিক ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সংগঠনের অভ্যন্তরে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজভিত্তিক সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তার পক্ষে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার কথাও তার ঘনিষ্ঠরা উল্লেখ করছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার সক্রিয় ভূমিকার দাবি করেছেন নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের আলোচনায় দলের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কারণে তার একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন অনুসারীরা।

আলোচনায় জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিমেল

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলও। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জবি ছাত্রদলের নেতৃত্ব তার হাতে আসে। এর আগে তিনি সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন হিমেল। এর বাইরে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা ও নিকলী সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের দায়িত্বেও ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জবি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তার ভূমিকার কথা সামনে আনছেন অনুসারীরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক হয়রানির মুখোমুখি হলেও তিনি সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তার অংশগ্রহণ ছিল বলে দাবি করেছেন ঘনিষ্ঠরা। এসব কারণে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে তার নাম গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় আরেফিন

জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনও রয়েছেন আলোচনায়। এর আগে তিনি সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি সখিপুর পৌর ছাত্রদলের ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন এবং দলের পক্ষে ন্যারেটিভ তৈরিতে আরেফিনের দক্ষতা রয়েছে। জবিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন, জকসুর কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠরা।

২৮ অক্টোবর, ১০ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও তার সক্রিয়তার কথা জানিয়েছেন অনুসারীরা। এসব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার বিবেচনায় এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক নেতা দেখা যাবে।

সব মিলিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার আগে জবি থেকে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, মেহেদী হাসান হিমেল ও শামসুল আরেফিন—এই তিন নামকে ঘিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ‘সুপার ফাইভ’ কিংবা কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা জায়গা পান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *