বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন ৪ সদস্যের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
বাংলাদেশ জাতীতাবাদী দলের বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তারা হলেন- অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমানউল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত দলীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু করে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা পেয়েছেন রিজভী। উচ্চ মাধ্যমিকের পর তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে রাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি নির্বাচিত হন।
২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৫ আগস্ট ২০২৬ তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়।
আমানউল্লাহ আমান
ঢাকার কেরানীগঞ্জের সন্তান আমানউল্লাহ আমানের রাজনৈতিক উত্থান ছাত্রদলের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৯০-এর দশকে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কারাবরণ ও নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঢাকা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার
ফরহাদ হালিম ডোনার মূলত চিকিৎসক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তিনি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রথম প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। চিকিৎসার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাজীবী সংগঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনীতিতে তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনটির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও ছিলেন। পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এবং ২০২৬ সালের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই ২০২৬-এ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যও মনোনীত হন।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ
ইসমাইল জবিউল্লাহর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্যারিয়ার। তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের সময় তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন; এর আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
অবসরের পর বিএনপির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং পরে দলটির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন সরকারে তিনি পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বও পেয়েছেন।

