স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদে আলোচনায় জহির উদ্দিন তুহিন
ক্ষমতাসীন বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এ এ জহির উদ্দিন তুহিন।
এর আগে, তিনি একাধারে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রদল এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় সংসদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
রাজপথের লড়াকু সৈনিক এ এ জহির উদ্দিন তুহিন সরকারি কবি নজরুল কলেজ ছাত্র সংসদ সাবেক নির্বাচিত এজিএস ছিলেন এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন স্লোগান মাস্টার খ্যাত সাবেক এই ছাত্রনেতা।
এছাড়া, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের দুই কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের একাধিক কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জিয়া পরিবারের অত্যন্ত আস্থাভাজন সাবেক এই ছাত্রনেতা।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতির দায়িত্ব দেয়। তিনি ঢাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন।
বিগত ফ্যাসিবাবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে প্রায় ১২০টি মামলার আসামি ও অন্তত ৫ বার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহধন্য এ এ জহির উদ্দিন তুহিন। এছাড়া ১০ বার রিমান্ডের নামে তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। ডান্ডাবেরি পড়িয়ে রাখা হতো তাকে। আওয়ামী সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়ন ও জেল-জুলুম সহ্য করেও জাতীয়তাবাদী চেতনায় অবিচল রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের এই শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় নেতাকর্মীরা জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটিতে জায়গা পেতে যাচ্ছেন এমন কয়েকজনকে ডেকে বিএনপির হাইকমান্ড কথাও বলেছেন। তবে এবার বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি দেখে তিনটি তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকা থেকেই আসন্ন কমিটিতে পদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটির একটি সূত্র। এছাড়া, তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাদের বিগত দিনের আমলনামা দেখে বিএনপির হাইকমান্ড এবার এ, বি, সি ক্যাটগরিতে ভাগ করে তিনটি তালিকা করেছেন। সেই তালিকায় বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নেতারা রয়েছেন ‘এ’ ক্যাটাগরি তালিকায়। তাদের সুপার ফাইভে পদপ্রাপ্তি প্রায় নিশ্চিত।
তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদ প্রত্যাশী ও তাদের পরিবারের কোনো গুরুতর অনিয়ম পেলে তাকে বাদ দিয়ে ‘বি’ তালিকার নেতা ওই পদে স্থান পাবেন। একইভাবে ‘বি’ তালিকার নেতা যদি কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বাদ পড়েন তাহলে ‘সি’ তালিকার নেতাকে দিয়ে সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

