মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ ভোটের মধ্যে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

ভোটগ্রহণের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল। তাঁর পদত্যাগের পর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্রের ৭(খ)(৬) ধারা অনুযায়ী রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁর এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিচালনা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন রিজভী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি ও গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরতে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান মুখ।

দলীয় সূত্রের মতে, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতার কারণেই রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

অন্যদিকে রিজভীও দীর্ঘদিন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে তিনিই পেলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব।

তবে রিজভীর এই দায়িত্ব গ্রহণকে আপাতত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনা করছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির দলীয় কাঠামোর পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বেও পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর ছেড়ে দেওয়া মহাসচিবের পদে রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শূন্যতা পূরণ হলো। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *