অস্ত্রসহ আটক ‘পাগলা সোহেল’কে ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

রাজধানীর খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পেশাদার খুনি ও কুখ্যাত মাদক কারবারি বলে দাবি করা খোরশেদ আলম ওরফে ‘পাগলা সোহেল’কে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর খিলগাঁও থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, আসামিপক্ষকে সুবিধা দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী মারজিয়া আফরিন। এ সময় তিনি ‘পাগলা সোহেল’-এর বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের মামলাগুলো আমলে নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি খিলগাঁও থানার অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ জুলাই খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিদেশি পিস্তল ও একটি সুইচ গিয়ার চাকুসহ ‘পাগলা সোহেল’কে হাতেনাতে আটক করেন। পরে গণধোলাইয়ের পর তাকে খিলগাঁও থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

মারজিয়া আফরিনের অভিযোগ, ঘটনার দিন তার স্বামীর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করতে থানায় গেলে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা এবং ডিউটি অফিসার এসআই আকরাম মামলা গ্রহণ না করে গড়িমসি করেন। সাক্ষীদের নাম ও তথ্য রেখে পরে অনলাইনে মামলা অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী জব্দ তালিকা (সিজার লিস্ট) প্রস্তুত না করেই পরদিন, অর্থাৎ ২৭ জুলাই, তাদের অভিযোগ ঝুলিয়ে রেখে ‘পাগলা সোহেল’-এর স্ত্রী তারিন আক্তারের দায়ের করা একটি পাল্টা মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। ওই মামলায় দাবি করা হয়, অভিযুক্তকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অন্য কেউ ঘটনাস্থলে অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের সিডিএমএস (CDMS) রেকর্ডের তথ্য তুলে ধরে দাবি করা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে খোরশেদ আলম ওরফে ‘পাগলা সোহেল’-এর বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, নারী নির্যাতন ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, খিলগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা ছাড়াও মোহাম্মদপুর ও সবুজবাগ থানায়ও মামলা রয়েছে।

এছাড়া ২০২১ সালে ডিবি পুলিশের একটি অভিযানে তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার এবং ২০২৩ সালে খিলগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির একটি ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

মারজিয়া আফরিন অভিযোগ করেন, ‘পাগলা সোহেল’-এর স্ত্রী নিজেকে একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেলে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তাকে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ছাড় পাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা এবং এসআই আকরামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে চেষ্টা করেও খিলগাঁও থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত খোরশেদ আলম ওরফে ‘পাগলা সোহেল’ কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *