রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ‍বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন। তিনি এরই মধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে অবহিত করেছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব সূত্রের কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক সূত্রমতে, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের পর বিএনপির পক্ষ থেকে কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে আলোচিত হচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন চুক্তিভিত্তিক জ্যেষ্ঠ আমলা নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। অতীতে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিদ্যুৎ, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তিনিও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

ড. আব্দুল মঈন খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায় রয়েছেন। তিনি পরিকল্পনা, তথ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশ-বিদেশে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনায় রেখেছে।

নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক নজরুল ইসলাম খান শ্রমিক রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন। এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যের কারণে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

নাসিমুল গনি

রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা এক চুক্তিভিত্তিক জ্যেষ্ঠ আমলা নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তিনি ১৯৮২ সালের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী। অতীতে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও সরকার কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি রাজনৈতিক জল্পনা ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন বলে বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *