রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার বর্তমানে দেশে না থাকায় এখনও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়নি। স্পিকার দেশে ফিরলেই তার কাছে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া যেন সাংবিধানিকভাবে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডে যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়েছে বিবিসি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরযুক্ত পত্র স্পিকারের উদ্দেশে পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সময় স্পিকারের সশরীরে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়ে যায়। ফলে একই সময়ে স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি দেশে ফেরার পরই পদত্যাগের সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি চাইলে সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগের জন্য কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণ—যে কারণই উল্লেখ করা হোক না কেন, স্পিকার দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

