নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে নতুন গ্যাসকূপের খননকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। ‘সুন্দরপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’ নামে পরিচালিত এই প্রকল্প সফল হলে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আশা করছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাপেক্স আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির খননকাজের উদ্বোধন করে। পরদিন বুধবার সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হয় ড্রিলিং কার্যক্রম। এর আগে জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ড্রিলিং রিগ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মিটার গভীরে খনন

বাপেক্স সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে কূপটির গভীরতা ১ হাজার ৫৫০ মিটার নির্ধারণ করা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হতে পারে। ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণে মাটির প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার এবং ১ হাজার ৪৫০ মিটার গভীরে দুটি সম্ভাব্য গ্যাসবাহী স্তর (জোন) চিহ্নিত করা হয়েছে।

বর্তমানে ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে মেজারমেন্ট হোয়াইল ড্রিলিং (MWD) প্রযুক্তি ব্যবহার করে খননকাজ চলছে।

আড়াই মাস পর জানা যাবে প্রকৃত মজুত

সুন্দরপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ ও বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) জাকির হোসেন খান জানান, প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যে খননকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (DST) সম্পন্ন করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির প্রকৃত গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রতিদিন মিলতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে কূপটির মোট গ্যাসের মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও আশপাশের কূপগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, সফলভাবে খনন ও ডিএসটি পরীক্ষা সম্পন্ন হলে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন গ্যাসের উৎস যুক্ত হবে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নোয়াখালীর গ্যাসক্ষেত্রের ইতিহাস

বাপেক্স জানায়, নোয়াখালীর এ অঞ্চল তথা বেগমগঞ্জ এলাকায় ১৯৭৬ সালে প্রথম এবং ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কূপ খনন করা হলেও সেগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সুন্দরপুর-৩ কূপে গ্যাসের সন্ধান মেলে এবং উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৮ সালে ওই কূপে ওয়ার্কওভার করার পর বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সুন্দরপুর-১, সুন্দরপুর-২ ও সুন্দরপুর-৩ নামে তিনটি কূপ খনন করেছে বাপেক্স। এর মধ্যে সুন্দরপুর-২ থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ চলছে। সুন্দরপুর-১ ও সুন্দরপুর-৩ থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ওয়ার্কওভার শেষে সুন্দরপুর-৩ থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন নাম ‘সুন্দরপুর-৪’?

নতুন কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত হলেও এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্রের অংশ। তাই বাপেক্সের নামকরণ নীতিমালা অনুযায়ী কূপটির নাম রাখা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *