স্বেচ্ছাসেবক দলে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে রফিক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে যেকোন সময় ঘোষণা করা হতে পারে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিবর্তে ‘সুপার ফাইভ’ আদলে কমিটি ঘোষণা করার গুঞ্জন চলছে।
সেই ‘সুপার ফাইভ’ কমিটিতে জায়গা পেতে যাচ্ছেন বর্তমান কমিটির প্রভাবশালী যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক। স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি সাধারণ সম্পাদক পদে জোরোলা আলোচনায় থাকা সাবেক এই ছাত্রনেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
তিনি শৈশবেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী দর্শনের গল্প শুনে জাতীয়তাবাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। সেই আদর্শিক বিশ্বাস থেকেই ১৯৯৯ সালে কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয়। যোগদানের দ্বিতীয় দিনেই ছাত্রদলের একটি মিছিলে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতায় ২০০১-২০০২ সেশনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়র পরিসংখ্যান বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং পরিসংখ্যান বিভাগ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে দেশের ক্রান্তিকালে ১/১১ সরকারের সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান গ্রেপ্তার হলে প্রতিবাদে মিছিল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন।
এছাড়া ২০১৩ সালের হরতাল চলাকালে মিছিল শেষে ডিবি পুলিশের হাতে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। তিনদিন গুম অবস্থায় রেখে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়। রাজনৈতিক জীবনে তাকে মোট সাতবার গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ৬ মাস ২০ দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত ভিড় করা নেতাকর্মীরা জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটিতে জায়গা পেতে যাচ্ছেন বর্তমান কমিটির প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতা। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতাও আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ডেকে বিএনপির হাইকমান্ড কথাও বলেছেন। তবে এবার বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি দেখে তিনটি তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকা থেকেই আসন্ন কমিটিতে পদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটির একটি সূত্র। এছাড়া, তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাদের বিগত দিনের আমলনামা দেখে বিএনপির হাইকমান্ড এবার এ, বি, সি ক্যাটগরিতে ভাগ করে তিনটি তালিকা করেছেন। সেই তালিকায় বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নেতারা রয়েছেন ‘এ’ ক্যাটাগরি তালিকায়। তাদের সুপার ফাইভে পদপ্রাপ্তি প্রায় নিশ্চিত। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদ প্রত্যাশী ও তাদের পরিবারের কোনো গুরুতর অনিয়ম পেলে তাকে বাদ দিয়ে ‘বি’ তালিকার নেতা ওই পদে স্থান পাবেন। একইভাবে ‘বি’ তালিকার নেতা যদি কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বাদ পড়েন তাহলে ‘সি’ তালিকার নেতাকে দিয়ে সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

