আইন-আদালতআন্তর্জাতিকক্যাপাসখেলাধুলাজাতীয়জেলার খবরতথ্যপ্রযুক্তিধর্মফিচারবিনোদনভ্রমণরাজনীতিলাইফস্টাইলসাবলিডসাহিত্যস্বাস্থ্য

৩ মাসের ‘শিশুর পা ভাঙার’ ভিডিও ভাইরাল, যা বলছে পরিবার

পারিবারিক বিরোধের জের ধরে নরসিংদীর পাইকারদিতে ৩ মাসের এক শিশুকে পা ভেঙে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে শিশুটির পা ভাঙেনি। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) দিয়ে ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল করেছে বলে দাবি শিশুটির পরিবারের।

জানা যায়, নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকার জহিরুল মিয়া ও সাময়া আক্তার দম্পতির রিজিক নামে ৩ মাসের এক সন্তান রয়েছে। সন্তানটি জন্মের পরপরই নানা জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছে। এই সুবাদে বাড়ির কাজকর্ম সাময়া আক্তারের জা লতা বেগমকে করতে হয়েছে। এই নিয়ে পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ১১ জুন সাময়া আক্তারের জা লতা বেগম শিশুকে পায়ে মোচর দেন।

এই বিষয়টি সায়মা আক্তারের মোবাইলে ধারণ করা হয়। পরে এই ভিডিওটি এআই দিয়ে এডিট করে পা ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে শিশুটির পরিবারের কাছে যায় এবং খোঁজখবর নেয়। সেখানে গিয়ে শিশুটির পা ভাঙা বা পায়ে প্লাস্টার করার কোনো চিহ্ন পায়নি পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সাময়া আক্তার বলেন, যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তা এআই দিয়ে এডিট করা। আমার সন্তানের কোনো পা ভাঙেনি। আপনার নিজে চোখে দেখেন। তার পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার নেই। পারিবারিক বিষয় নিয়ে আমার জার সাথে মনোমালিন্য হয়েছিল। এর জেরে সে বাচ্চার পায়ে মোচড় দেয়। জায়ের বাবা আমাদের বাসায় এসে তাকে বকাঝকা করেছে এবং বিষয়টি পারিবারকভাবে মীমাংসা হয়ে গেছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, তারা এক পরিবারের সদস্য। এক সাথে ব্যবসা করে একসাথেই থাকে। সংসারে কাজকর্ম নিয়ে জায়ের সাথে মনোমালিন্যের জেরে শিশুটির পায়ে মোচর দেয়। পরে সেটা এআই দিয়ে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। শিশুটির পা ভাঙেনি। আমি তাদের বাড়ি গিয়েছি। শিশুটিকে দেখেছি। এ বিষয়য়ে শিশুটির বাবা-মা থানায় এসেছে। তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলে আমাদের জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *