ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে চলছে নানা আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও আংশিক অবস্থায় থাকা দুই মহানগর কমিটিতে নতুন নেতৃত্বে সাজানোর সম্ভাবনা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বেড়েছে আগ্রহ। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, উত্তরের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন— মো. মোস্তফা কামাল হৃদয় (বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও উত্তরা পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক), মো. লিটন মাহমুদ বাবু (বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি), মহসিন সিদ্দিকী রনি (বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক), রুহুল আমিন সোহেল (বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক), ইকবাল হোসেন (বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি) এবং চান মিয়া সরদার (বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক)।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন— মোশারেফ হোসেন মুশু (স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সমবায় সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা), মো. আব্দুল জলিল (দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি), সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার (বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক), মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন রিন্টু (বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি), সুজন মোল্লা (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক) এবং ওমর ফারুক (বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক)।
ঢাকা মহানগর উত্তরে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা
২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর মো. শেখ ফরিদ হোসেনকে সভাপতি এবং মহসিন সিদ্দিকী রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় ওই কমিটির মেয়াদও শেষের দিকে পৌঁছেছে। নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনায় একাধিক নেতার নাম সামনে এসেছে। তারা হলেন-
মো. হানিফ তপন
মো. হানিফ তপন মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান কমিটির নেতাদের চেয়েও তিনি সিনিয়র। মিরপুর এলাকার বিএনপি পরিবারের সন্তান মো. হানিফ তপন বিগত দিনে আন্দোলন করতে গিয়ে ২৫টি মামলার শিকার হন। এক সময় তাকে ধরতে না পেরে তার বাবাকে অনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় তৎকালীন ওসি সালাউদ্দিন।
মো. মোস্তফা কামাল হৃদয়
উত্তর মহানগরের নেতৃত্বের আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম মো. মোস্তফা কামাল হৃদয়। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি এবং উত্তরা পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। বিগত সরকারের আমলে বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক মামলার আসামি এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি।
মো. লিটন মাহমুদ বাবু
বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. লিটন মাহমুদ বাবুও শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। তিনি আগের কমিটিতেও সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনে তার ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
মহসিন সিদ্দিকী রনি
বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসিন সিদ্দিকী রনিও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের একজন। ২০২৩ সালের আংশিক কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। নতুন কমিটিতে তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
রুহুল আমিন সোহেল
উত্তরের নেতৃত্বের আলোচনায় থাকা আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম রুহুল আমিন সোহেল। তিনি বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক। এর আগে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সদস্য সচিবও ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি বহু মামলার শিকার হন এবং একাধিকবার কারাগারে যান।
ইকবাল হোসেন
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন ইকবাল হোসেন, তিনি বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
চান মিয়া সরদার
চান মিয়া সরদার বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক। তিনিও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো। ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন তুহিনকে সভাপতি এবং সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে নয় সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।
সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার
দক্ষিণের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদারও নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন। ২০২৩ সালে গঠিত আংশিক কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে নতুন কমিটি ঘিরে তার নামও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মোশারেফ হোসেন মুশু
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সমবায় সম্পাদক মোশারেফ হোসেন মুশু জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের (সেশন ২০০০-২০০১) ইয়ার কমিটি আহ্বায়ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ (রাজীব-আকরাম) কমিটির সহ বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ (জুয়েল-হাবিব) কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন তিনি। মোশারেফ হোসেন মুশু বিগত ওয়াল ইলেভেন থেকে শুরু করে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে অনেকগুলো মামলার আসামি হন এবং অনেক দিন জেল খাটার পাশাপাশি ফেরারি জীবন-যাপন করেন।
মো. আব্দুল জলিল
দক্ষিণের নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসা নামগুলোর একটি মো. আব্দুল জলিল। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিক মামলা ও কারাবরণ করেছেন।
মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন রিন্টু
বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন রিন্টু দক্ষিণের নেতৃত্বের আরেক আলোচিত প্রার্থী। এর আগে তিনি যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিক মামলার শিকার হন তিনি।
সুজন মোল্লা
দক্ষিণের নেতৃত্বের আলোচনায় থাকা আরেক আলোচিত নাম সুজন মোল্লা। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। এর আগে বিভিন্ন আন্দোলনেও তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ওমর ফারুক
মহানগর দক্ষিণের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুকও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।
স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান জানান, সাধারণত কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় আসে। এবারও হয়তো তাই হবে।

