স্বেচ্ছাসেবক দলের ‘সুপার ফাইভে’ আলোচনায় এম আর গনি মোস্তফা
স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সুপার ফাইভে; আলোচনায় থাকা বর্তমান কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এম আর গনি মোস্তফা ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ (হল পদমর্যাদা) ছাত্রদলের আহ্বায়ক। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের আগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন এবং টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জ জেলায় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি সফল করতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
এম আর গনি মোস্তফা বিগত দিনে রাজনীতিতে অসংখ্য মামলার শিকার হন এবং একাধিকবার পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন (যা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে)। এছাড়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলায় রায়ের দিন পুলিশের হামলায় আহত হয়ে ২৮ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। তখন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভাইব্রারে ফোন দিয়ে তার খোঁজ-খবর রাখেন।
পরে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন সমাবেশে পুলিশের গুলিতে আহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের এই কেন্দ্রীয় নেতা। জুলাই আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশমতে রাজধানীর শনি আখড়ায় ছাত্র-জনতার সাথে মিশে আন্দোলন করেন এম আর গনি মোস্তফা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দলের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটিতে জায়গা পেতে যাচ্ছেন এমন কয়েকজনকে ডেকে বিএনপির হাইকমান্ড কথাও বলেছেন। তবে এবার বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি দেখে তিনটি তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকা থেকেই আসন্ন কমিটিতে পদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটির একটি সূত্র। এছাড়া, তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাদের বিগত দিনের আমলনামা দেখে বিএনপির হাইকমান্ড এবার এ, বি, সি ক্যাটগরিতে ভাগ করে তিনটি তালিকা করেছেন। সেই তালিকায় বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নেতারা রয়েছেন ‘এ’ ক্যাটাগরি তালিকায়। তাদের সুপার ফাইভে পদপ্রাপ্তি প্রায় নিশ্চিত। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদ প্রত্যাশী ও তাদের পরিবারের কোনো গুরুতর অনিয়ম পেলে তাকে বাদ দিয়ে ‘বি’ তালিকার নেতা ওই পদে স্থান পাবেন। একইভাবে ‘বি’ তালিকার নেতা যদি কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বাদ পড়েন তাহলে ‘সি’ তালিকার নেতাকে দিয়ে সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

