জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান: বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পূর্ণ করল সাফল্যের ৪৮ বছর। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে যে রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের কোটি মানুষের আস্থায় রূপ নিয়েছে। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্ব, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন গণমুখী বিস্তার এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার আধুনিক ভিশন—এই তিন পর্বের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় বিএনপি আজ দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

যেভাবে যাত্রা শুরু: জিয়াউর রহমানের স্বর্ণালী অধ্যায়

১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল শাসনের রুদ্ধকর পরিবেশ থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ঘটে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। আত্মনির্ভরতা, জাতীয় ঐক্য ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূলনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন ঐতিহাসিক ‘১৯ দফা’ কর্মসূচি। ১৯৭৭ সালের ‘জাগদল’-এর ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় বিএনপি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি ও পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা, মুক্ত বাজারব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অভূতপূর্ব সংস্কার শুরু হয় তাঁর শাসনামলে।

আপসহীন সংগ্রাম ও বেগম খালেদা জিয়ার যুগ

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দলের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন তাঁর সহধর্মিণী খালেদা জিয়া।

১৯৮২ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি। ১৯৮৪ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপর চার দশকেরও বেশি সময় দলের নেতৃত্বে থেকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপি সরকার গঠন করে। ফলে দলটি আন্দোলন, নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

নতুন বাস্তবতা ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব

বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মায়ের সঙ্গে রাজপথে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে বিএনপির বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন তিনি।

২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে ২০২৬ সালে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসে। বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বলিষ্ট নেতৃত্ব সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসেছে বিএনপি।

৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলাকে সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।

পাঁচ দিনব্যাপী উদযাপনের প্রধান প্রধান কর্মসূচি

১ সেপ্টেম্বর: সকাল ৬টায় নয়াপল্টনসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও শ্রদ্ধা নিবেদন।

৫ সেপ্টেম্বর: বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল আলোচনা সভা, যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সামাজিক উদ্যোগ: সারা দেশে বৃক্ষরোপণ (নেতৃত্বে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি) ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি (নেতৃত্বে হাবিব উন নবী খান সোহেল)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *