ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় যারা

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। সেই বাস্তবতায় দুই মহানগরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দুই মহানগর মিলিয়ে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে আসা নেতাদের রাজনৈতিক পথচলায় একটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—কে দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, কে সংগঠন ধরে রেখেছেন এবং কে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য।

দলীয় সূত্র ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটিতে সম্ভাব্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, মামলা-হামলা ও কারাবরণ, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন কমিটিতে ত্যাগী, পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিই সামনে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ঘিরে বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

নয়াপল্টনে ভিড় যুবদল নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন কেন্দ্রীয় যুবদলের পদ পাওয়ায় নেতৃত্বের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফয়সাল আহমেদ সজল, এম এ গাফফার, ওমর ফারুক মুন্না, মো. জিন্নাহ, আসিফুর রহমান বিপ্লব, নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি, সোহাগ ভূঁইয়াসহ একাধিক নেতাকে ঘিরে চলছে আলোচনা। দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পণ্ডিত এবং রাফিজুল হাই রাফিজের নামও রয়েছে।

এম এ গাফফার

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফফার সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা অন্যতম নেতা। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা গাফফারকে সংগঠনের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফয়সাল আহমেদ সজল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে আলোচিতদের মধ্যে রয়েছেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার কারণে তিনি পরিচিত মুখ। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও কর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তার ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে। সজল নিজেও জানিয়েছেন, দল তার অতীত ভূমিকা বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই তিনি মেনে নেবেন।

ওমর ফারুক মুন্না

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্নার নাম দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—দুই পদেই আলোচনায় এসেছে। তিনি দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে তার আলাদা একটি পরিচিতি রয়েছে। হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেছেন, সংগঠন শক্তিশালী করতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন।

আসিফুর রহমান বিপ্লব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিফুর রহমান বিপ্লবও দক্ষিণ যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছেন। তার বক্তব্যে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তার মতে, পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতারা দায়িত্ব পেলে সংগঠনের সুনাম বাড়বে এবং সংগঠন শক্তিশালী হবে।

ওমর ফারুক কাওসার

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাওসারও দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা, মামলা ও গুমের শিকার সব ত্যাগী নেতাকর্মীর মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ

দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—দুই পদেই আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা তিনি জানিয়েছেন। ২০১০ সালের হরতালে পুলিশের নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে কারাগারে যাওয়ার তথ্যও তার বক্তব্যে এসেছে। পরবর্তী সময়েও আন্দোলন-সংগ্রামে গ্রেপ্তার ও কারাভোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন এবং অতীতের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সোহাগ।

মো. জিন্নাহ

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিন্নাহ দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। ১৯৯৪ সালে ইউনিট যুবদলের সহ-সভাপতি হন। এরপর ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মুগদা থানা যুবদলের সভাপতি এবং ২০২১ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার বিবেচনায় পুনরায় মূল্যায়নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি

ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে জোরালোভাবে আলোচিত। ছাত্রদলের মহানগর পর্যায়ের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রাখা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে তার নাম একাধিক তালিকায় উঠে এসেছে।

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসলামও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দক্ষিণ যুবদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় বিভিন্ন পর্যায়ে তার নাম উঠে এসেছে।

ইমরান খান ইমন

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ইমরান খান ইমনও আলোচনায় থাকা পরীক্ষিত নেতাদের একজন। তিনি ছাত্রদলের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে মহানগর পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। যুবদলের ‘ক্রাইসিস মোমেন্টে’ ঢাকা মেট্রো টিম-৬ (বংশাল-চকবাজার)-এর দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন। বিগত সরকারের সময়ে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

সোহাগ ভূঁইয়া

ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়ার নাম দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৭৬টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এসব কারণে আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *