মঙ্গলবার (৯ মার্চ) নাটোরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বঙ্গোজল পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানিয়েছেন, নাটোর রাণী ভবানী রাজবাড়ির শ্যাম সুন্দর মন্দিরের পুরোহিত অসিত কুমার বাগচীকে মারধরের ঘটনাটি একটি সাজানো ঘটনা! প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হামলার এই নাটক সাজানো হয়। মূলত পুরোহিত অসিত বাগচি মাদ্রাসা মোড় এলাকায় অটোরিক্সার ধাক্কায় আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এসব কথা বলেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক যুবায়ের, এএসপি সদর সার্কেল মো. মোহসিন, সদর থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর সন্দেহ হলে আমরা মাঠে নামে পুলিশ। তদন্তের পর মনে হয়েছে পুরো ঘটনা সজানো। পুরোহিত কীভাবে আহত হয়েছেন তার প্রত্যক্ষদর্শীও খুঁজে বের করে পুলিশ। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শে তারা হামলার কথা প্রচার করেছেন। আসলে তিনি শহরের মাদ্রাসা মোড়ে অটোরিকশায় ধাক্কা খেয়ে পায়ে আঘাত পেয়েছেন।

তিনি আরো জানান, মন্দির কমিটি নিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে অন্য সদস্যদের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মন্দিরের পুরোহিত অসিত বাগচিকে দিয়ে হামলার নাটক সাজান মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈলেন্দ্রনাথ। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈলেন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর অগে অসিত বাগচির স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনজন হেলমেট পরিহিত যুবক মন্দিরের ভিতরে ঢুকে তাকে মারধর করে আহত করেন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, শ্যামসুন্দর মন্দিরের কমিটি সংক্রান্ত দ্বন্ধের কারণে তাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক পুরোহিতের স্ত্রী ক্ষমা বাগচীকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ করান।

অসিতের স্ত্রী ক্ষমা বাগচি বলেন, বর্তমানে মন্দির কমিটিতে বিরোধ চলছে। এই বিরোধ নিয়ে পুরো নাটক সাজিয়েছিলেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈলেন্দ্রনাথ দাস। তার সাজানো কথাগুলো তারা গণমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন। পরে পুলিশ তদন্তে নেমে পুরোহিত, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসে।