নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের কি গরজ আছে? আমরা যদি পরগাছার হই তারা আমাদেরকে তাদের সঙ্গে রাখবে কেন? যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করলেই তো বুঝা যায় সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তখন তারা আমাদের তাদের সঙ্গে রাখবে না । এইভাবে রাজনীতি করলে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব টিকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।

স্বকীয়তা দেখাতে না পারলে দল টিকতে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা যেভাবে রাজনীতি করছেন, ততে দলের অস্তিত্বই থাকবে না।

নিজের ৭৩ তম জন্মদিনে নেতা-কর্মীরা শুভেচ্ছা জানাতে গেলে সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাই এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। ১৯৪৮ সালের আজকের দিনে জন্ম নেন জি এম কাদের। বুধবার এই দিনে রাজধানীর বনানীতে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান নেতা-কর্মীরা।

জিএম কাদের বলেন, আমরা যদি আওয়ামী লীগের সমর্থন ছাড়া টিকতে না পারি, তার অর্থ হলো, আমরা পরগাছা, যার কোন শেকড় নেই। পরগাছাকে মানুষ কেটে ফেলে দেয়। সে হিসেবটা যদি হয় তাহলে কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) আমাদের ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে রাখবে না।

আওয়ামী লীগের কি গরজ আছে? আমরা যদি পরগাছার হই তারা আমাদেরকে তাদের সঙ্গে রাখবে কেন? যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করলেই তো বুঝা যায় সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তখন তারা আমাদের তাদের সঙ্গে রাখবে না । এইভাবে রাজনীতি করলে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব টিকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।

১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চার বছরের মাথায় ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি নিজের রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি গঠন করেন এরশাদ। ওই বছরের জাতীয় নির্বাচনে জিতেও দলটি। সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে বহু নেতা যোগ দেন দলটিতে।

তবে গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে পতনের পর থেকে যত দিন গেছে, ততেই ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে দল। যদিও ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করার সুবাদে সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন দখলে রাখতে পেরেছে তারা।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনেও জাতীয় পার্টিই। এর মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের পর একই সঙ্গে বিরোধী দলের পাশাপাশি ও সরকারেও অংশ নেয় দলটি। যদি এবার সরকারের যাননি দলের কেউ। তার পরেও জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের বি টিম বলে নানা সময় আক্রমণ করে আসছে বিএনপি।

জিএম কাদের নিজেও মনে করেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে মাখামাখি তার দলের জন্য খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, আপনারা কোনো সময় ওই ভুলের মধ্যে পা দেবেন না যে, আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে আমরা অন্য একটি দলের পেছনে দৌড়াদৌড়ি করব। তাদের নেতাদের প্রশংসা বাক্য বললেই আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হবে, এটা আশা করাটা একটা দুরাশা।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের যদি আওয়ামী লীগ ছাড়া অস্তিত্ব রক্ষার আর কোনো সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আগামী বার আওয়ামী লীগ আমাদের আর কোনো সুযোগ দেবে না। যদি তারা মনে করে যে, আমাদের দলের শেকড় আছে এবং আমাদের ছাড়া তাদের চলবে না, তা হলেই তারা আমাদের সুযোগ দেবে।

দলের একাংশের প্রতি ইঙ্গিত করে জাপা প্রধান বলেন, যারা স্বকীয়তা বজায় রেখে রাজনীতি করবে না, সংসদে কিংবা এর বাইরে, আমরা সকলে মিলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। কারণ, জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব থাকবে কি থাকবে না সেই প্রশ্ন তখন সামনে এসে দাঁড়াবে।

নেতা-কর্মীদের জনগণের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার নির্দেশ দিয়ে জি এম কাদের বলেন, রাজনীতি করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা রাখতে হবে। দরকার হলে রাস্তায় যেতে হবে, লাঠির সামনে দাঁড়াতে হবে। জেলে যেতে হবে। দরকার হলে গুলির সামনে যেতে হতে পারে। এমন কোনো কিছুই করবেন না যাতে জনগণের মধ্যে তার না হয় আমরা কারো ’বি’ টিম । নিজের স্বকীয়তা নিয়ে রাজনীতি না করতে পারলে এমনিতেই দলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।