ছবি: প্রতীকী

নিউজ ডেস্ক: উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের ঘটনার চিত্রের বর্ণনা দিয়েছেন একজন নারী। তিনি দাবি করেছেন যে চীনের উইঘুর শিবিরে উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করা পুরুষ এবং নারীদের ক্লাসে মান্দারিন পড়ানোর জন্য বাধ্য করা হয়েছিল এবং তাদের বন্ধ, তালাবদ্ধ দরজার পিছনে কী ঘটেছিল তার একটি বিরল ইতিহাস আছে।

কেলবিনুর সিডিক নামের একজন শিক্ষক বলেছেন, তাকে ২০১৬ সালে সায়বাগ জেলা শিক্ষা ব্যুরো-এর একটি সভায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং তিনি নিরক্ষরদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ করবেন বলে জানানো হয়। ২০১৭ নাগাদ সরকারী ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের মান্দারিন শিক্ষা দেওয়া হয়।

সিডিক জিনজিয়াংয়ে বেড়ে উঠেছেন এবং ছয় থেকে তের বয়সী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতে ২৮ বছর ব্যয় করেছেন। শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মিসেস সিদ্দিক বলেছিলেন যে বন্দিরা সুস্থ শরীর নিয়ে এসেছিল কিন্তু পরে অসুস্থ হয়ে যায়। তিনি তার ক্লাসরুমের নিচে বেসমেন্ট থেকে প্রতিনিয়ত চিৎকার শুনতে পেতেন। পরে একজন পুলিশ আটককৃতদের কান্নার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি যে শিবিরগুলিতে কাজ করেছিলেন তার মধ্যে একটি নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বলেছিলেন যে তিনি বন্দীদের ধর্ষণ করার রিপোর্ট তদন্ত করছেন। তাতে নারীদের উপর কীভাবে ধর্ষণ চালানো হয় সে বিষয় উঠে আসে।

যদিও এই দাবির কোনটিই যাচাই করা যায়নি। এর আগে একই সিএনএন প্রতিবেদনে জনাবা জিয়াউউদুন বলেছিলেন, ২০১৮ সালের মার্চে যখন তাকে ধরা হয়েছিল জিনজিয়াংয়ের গুলজা শহরের ঠিক বাইরে একটি কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল, যেখানে তিনি নয় মাস অবস্থান করেছিলেন। একাধিক গণধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শুনেছিলাম যে একটি মেয়ে অন্য ঘরে কাঁদছে ও চিৎকার করছে। আমি প্রায় পাঁচ বা ছয়জনকে ওই ঘরে যেতে দেখেছি। তারা যখন আমাকে গণধর্ষণ করেছিল তখন আমি বুঝেছিলাম যে তারা তার সাথে কি করেছিল।

মিসেস জিয়াউদুন ২০২০ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ব্রডকাস্টারের সাথে কথা বলেছিলেন। পরে চীনা কতৃপক্ষের কড়া নির্দেশে কাজাখস্থান ফিরে আসেন। পরে মেডিক্যাল রিপোর্ট থেকে জানা যায়, নিম্নাঙ্গে ফোড়া ( তলপেটে ফোড়া) এবং যোনি রক্তক্ষরণ হয়। এই জন্য তিনি ওই শিবিরের হাতুড়ে চিকিৎসাকে দায়ী করেন।

এদিকে চীন সরকার উইঘুরদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিনজিয়াংয়ে কোনও তথাকথিত নিয়মিত যৌন নির্যাতন ও নারীদেরে বিরুদ্ধে নির্যাতন নেই।