নিউজ ডেস্ক: বাবা, আমি আজমির শরিফ থেকে বলছি। তুই ভাগ্যবান। কয়েক দিনের মধ্যে তুই কোটিপতি হয়ে যাবি। তাই তোকে বাবার দরবারে কিছু জায়নামাজ কিনে দিতে হবে। পরদিন আবার ফোন দরবারের কিছু ল্যাংড়া ছেলেদের খাওয়াতে হবে।

প্রতিদিন রাতে মোবাইলে ফোন দিয়ে এভাবেই চুয়াডাঙ্গার ভ্যানচালক আব্দুল জলিলকে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখায় জিনের বাদশা। এই স্বপ্ন দেখিয়ে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এ ঘটনায় আব্দুল জলিল দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভ্যানচালক আব্দুল জলিল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামের আমতলা পাড়ার খলিলের ছেলে।

জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে আব্দুল জলিল প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দেন দেড়লাখ টাকা। এক পর্যায়ে চক্রটি জলিলকে বগুড়ায় নিয়ে একটি পিতলের মূর্তি ধরিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী ভ্যানচালক আব্দুল জলিল জানান, জিনের বাদশা প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন তিনি। তাকে বিভিন্ন সময় দরবারে জায়নামাজ, ল্যাংড়া ছেলেদের খাওয়ানো, দরবার শরিফ নির্মাণ করে দিলে কোটিপতি হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায় প্রতারক চক্র।

কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ধারকর্য এবং স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে দিনাথপুর করিমের বিকাশের দোকান ও দর্শনা বাসস্ট্যান্ড মর্ডান স্টোরের জাফরের বিকাশের দোকান থেকে কয়েক দফায় জিনের বাদশা মরজেমের বিকাশ নম্বর (০১৭৮৬৯০৩৯৩৬)-এ এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাঠান। এক পর্যায়ে গত শনিবার রাত ১০টার দিকে বগুড়ার কোনো এক জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রতারকচক্র তার হাতে লালকাপড়ে মোড়ানো একটি পিতলের মূর্তি তুলে দেয়। বিষয়টি সাতদিনের মধ্যে কাউকে না জানানোর জন্যও বলে দেয় তারা। আর এই ৭ দিনের মধ্যে ঘরের মধ্যে ৭ হাঁড়া মূল্যবান মোহর পাবেন বলে জানায়। যার একটি মোহরের মূল্য হবে ২৫ লাখ টাকা।

তিনি আরো জানান, ঘরের মধ্যে মোহরের হাঁড়া না পাওয়ায় টেনশনে পড়ে যান তিনি। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবারো সেই জিনের বাদশার ০১৮৭৭০০১২৫৭ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে তাকে ওই বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলে। না দিলে ঘরে সাপ উঠবে এবং চরম অমঙ্গল হবে বলে ভয় দেখায়।

গত ১৫ দিন ধরে গভীর রাতে জিনের বাদশা মরজেম তার সাথে এই প্রতারণার করে টাকাগুলো হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ আব্দুল জলিলের।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ভ্যানচালক জলিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।