বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আসলাম চৌধুরী। (পুরনো ছবি)

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে তিন দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এই আদেশ দেন।

এর আগে সকালে আসলাম চৌধুরীকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধীতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তিন দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই হুমায়ন কবির আসামিকে গ্রেফতার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করে রিমান্ড শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে যায়, ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামসহ সমমনা ১২ ইসলামী দল হরতালের ডাক দেয়। এর সমর্থনে ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কোতয়ালী থানাধীন বাবুবাজার জামে মসজিদের সামনে থেকে দলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে তারা সরকার ও শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

রাজধানীর বাবুবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে লাঠিচার্জ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা ককটেল ও গুলি চালায়। এ ঘটনায় এসআই এরশাদ হোসেন বাদী হয়ে ওইদিন মামলাটি করেন। মামলায় ১০১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুই থেকে আড়াইশ’ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় আসামি হিসেবে এবার আসলাম চৌধুরীকে গত ১৮ জানুয়ারি গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৫ মে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দিল্লি ও আগ্রার তাজমহল এলাকায় ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা-সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়।

ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির ফেসবুক পেজে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে তোলা বেশ কিছু ছবি যা মেন্দি এন সাফাদি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন। একটি ছবিতে আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা যায় মেন্দি এন সাফাদিকে। সেখানে এক অনুষ্ঠানে তারা ফুলের মালা গ্রহণ করেন। সেখানে তাদের পাশে হাসিমুখে আসলাম চৌধুরী অবস্থান করছেন। এ ছাড়া আগ্রার তাজমহল এলাকায় তাদের একসঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি ছবি আপলোড করা হয়।

এদিকে, গত ২৬ জানুয়ারি ইসরাইলের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডট কম’-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রকাশিত হয়। সেখানে মেন্দি এন সাফাদি বলেছেন, ‘শিগগিরই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দরজা ইসরাইলিদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আর এটা অসম্ভব কোনো আকাঙ্ক্ষা নয়। নির্যাতিত এবং মানুষের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা একটি নৈতিক দায়িত্ব। সেজন্য আমি এসব লোকের সহায়তার জন্য রয়েছি। বাংলাদেশে নির্যাতিক কাহিনীগুলো সত্যিকারের। প্যালেস্টাইনের মতো বানানো নয়। এখানে মানুষ নিপীড়িত হচ্ছে, কারণ তারা ভিন্নমতের। এক্ষেত্রে আমি ইসরাইলি হিসেবে গর্বিত। আমি আরও গর্বিত যে, অনেক বাংলাদেশি ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল। যদিও বাংলাদেশের নাগরিকদের পাসপোর্টেও লেখা থাকে, ইসরাইল ছাড়া সারাবিশ্বে তারা ভ্রমণ করতে পারবে। সেটাও আমি শিগগিরই পরিবর্তন করতে যাচ্ছি।

এর আগে ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে আসেন আসলাম চৌধুরী। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হলেও ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক হন। এর আগে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রিয় সম্মেলন শেষে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।